শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে কথা হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের। মোদির বক্তব্যের জবাবে ড. ইউনূস বাংলাদেশের হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলেছেন। এদিকে মোদি বলেছেন, ‘আমি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ এবং অগ্রগামী বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছি। তিনি আমাকে বাংলাদেশের হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, গত à§« আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে সংসদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন। এরপর à§® আগস্ট প্রফেসর ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় বাংলাদেশে।

প্রতিবেশী দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে কথা হবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। কথায় সৌজন্যতা থাকবে, একসাথে কাজ করার আগ্রহ থাকবে, পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় থাকবে, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনা সম্মান পাবে। যদিও উভয়ের প্রাথমিক আলোচনায় সব বিষয়ে কথা হয়নি। মোদির বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিষয়টি আসলেই গুরুত্ব পাওয়ার মতো। তবে এখানে বলার মত বিষয় হলো, বাংলাদেশে আসলেই কি সংখ্যালঘুদের নিরপত্তা বিঘিœà¦¤ হচ্ছে; নাকি ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং যার সাথে জড়িত রয়েছে কিছু দুর্বৃত্ত এবং অশুভ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ? এখানে অবশ্যই ভারতের কিছু উগ্র রাজনীতিক ও মিডিয়ার প্রোপাগান্ডার কথা উল্লেখ করতে হয়। বিবিসি’র প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা ও অত্যাচারের যে চিত্র ভারতের কিছু মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়েছে তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দেশ। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর দেশে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। সেই সুযোগে কিছু দুর্বুত্ত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও সম্পদ লুন্ঠনের চেষ্টা করে। কিন্তু বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-আন্দোলন ও দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। তারা মন্দির পাহারাসহ সংখ্যালঘুদের নিরপত্তা দেন। কিন্তু এ বিষয়গুলো ভারতের বিজেপি নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনুগত মিডিয়ার নজরে আসেনি। তাদের যত উৎসাহ একপেশে ও নেতিবাচক প্রোপাগান্ডায়। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমেই শান্তি ও স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

ড. ইউনূসের সাথে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিষয়ে যেভাবে কথা বললেন, তাতে ভারতের সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে মোদির আচরণ নিয়ে বাংলাদেশের এবং বিশে^র জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। ছোট্ট পরিসরে সে সব বিষয় উল্লেখের সুযোগ নেই। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মার্চ মাসে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে ১৭৩টি বক্তৃতা দিয়েছেন, তারমধ্য ১১০টিতে ইসলামফোবিক মন্তব্য রয়েছে; যা মুসলিম বিদ্বেষী। আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে, ভারতে লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির ৬৩ শতাংশ ভাষণ ছিল ঘৃণা পোষণকারী ও হিংসাত্মক। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মোদির হিংসাত্মক বক্তব্যের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার বিষয়টিও নথিভুক্ত করেছে। মিডিয়ার কল্যাণে বিশ^বাসী জেনেছে, ভারতে বিজেপি সরকারের গত এক দশকের শাসনে মুসলিমসহ অন্যান্য সংখালঘুদের জীবন-যাপন কতটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শুধু যে মুসলমানদের মসজিদে হামলা হয়েছে তা নয়; মুসলিমরা কি খাবে, কি পরবে তাও ঠিক করে দিতে চেয়েছে বিজেপি’র উগ্র রাজনীতিবিদরা। এই যখন বিজিপি সরকারের আমলনামা, তখন প্রতিবেশীদের ব্যাপারে মোদির উচ্চকন্ঠ না হওয়াটাই যৌক্তিক। আগে নিজের ঘর সামলান, আমাদেরটা আমরা সহজেই সামলে নেব; কারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ